Blog Details

১৮০ কর্মদিবসে বিভাগীয় মামলা না করে শিক্ষককে বরখাস্ত রাখা কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল ও নির্দেশনা

সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না করে সাতক্ষীরার সুরাত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহাল না করা কেন অবৈধ হবে না এবং একই সাথে তাকে সপদে পুনর্বহাল বকেয়া বেতন-ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট।

একই সাথে প্রধান শিক্ষক পদে পুনর্বহালের জন্য বিবাদীর নিকট দাখিলকৃত আবেদনটি আগামী ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

একটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের বিচারপতি মোঃ আসিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন এডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া।

এডভোকেট মো. মনিরুল ইসলাম মিয়া বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নম্বর বিবাদী কর্তৃক জারিকৃত বিগত ০৮/০৮/২০২৪ তারিখের সার্কুলার মেমো অনুযায়ীকোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা শৃঙ্খলামূলক বা বিভাগীয় কার্যধারা সাময়িক বরখাস্ত বা মামলা শুরুর তারিখ থেকে ১৮০ (একশত আশি) কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, নির্ধারিত ১৮০ কর্মদিবস পার হয়ে গেলেও বিবাদী পক্ষ উক্ত তদন্ত বা কার্যধারা সম্পন্ন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত। অথচ কর্তৃপক্ষ বিধি অনুযায়ী আবেদনকারী প্রধান শিক্ষককে পুনর্বহাল না করে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

আবেদনে বলা হয়, সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের সুরাত আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে এভাবে দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ তদন্তের অজুহাতে বরখাস্ত করে রাখায় তার দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে পূর্ণ বেতন শিক্ষা ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়ে বড় ধরনের আর্থিক সামাজিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৯/০১/২০২৫ তারিখে কালিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর স্বাক্ষরে উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি বিভাগীয় শৃঙ্খলামূলক কার্যধারা শুরু করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল, যা নির্ধারিত আইনের মেয়াদের মধ্যেও নিষ্পত্তি করা হয়নি।